শিরোনাম :
কচুয়ায় চেতনা যুব নারী সংস্থার উদ্যোগে এতিম ও গরীব শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বাধা সৃষ্টিকারী পাকিস্তানী প্রেতাত্তাদের স্বপ্ন পুরন হয়নি হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় দুই যুবক গুরুতর আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্বাস আলী খান স্মরণে নাইট ক্রিকেট টূর্নামেন্ট উদ্বোধন অনেকটা অর্থাভাবে চসিক; প্রকল্প গ্রহণেও নেই আগ্রহ প্রধানমন্ত্রীর “উপহার ঘর” চাচ্ছে গুরুদাসপুরের বঞ্চিত হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা কচুয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদকের সুস্থ্যতায় দোয়া কামনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্বাস আলী খান স্মরণে নাইট ক্রিকেট টূর্নামেন্ট উদ্বোধন ব্যারিষ্টার মওদুদ আর নেই সিরাজদিখানে অবৈধ ভাবে খাল ভরাট, প্রশাসনের বাঁধায় বন্ধ

প্রধানমন্ত্রীর “উপহার ঘর” চাচ্ছে গুরুদাসপুরের বঞ্চিত হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
  • ৫৬ বার পঠিত

ইমাম হাছাইন পিন্টু ,নাটোর প্রতিনিধি

যে হাত দিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে শ্রী বৃদ্ধি করছেন শহরের। সেই আবর্জনাই যেন চারপাশ থেকে চেপে ধরেছে ওদের জরাজীর্ণ ঘরগুলোকে।

নিজ হাতে পুরো শহরকে পরম মমতায় শ্রীমান করে রাখলেও ঠাঁই হয়নি তাদের বিশাল এই শহরের কোন স্থানে। শহরের বিশাল অট্রালিকার মাঝে ঢাঁকা পরেছে তাদের স্বপ্ন, বাসস্থান আর বুকে চেঁপে রাখা কষ্ট গুলো।

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু” ভুপেন হাজারিকার শত বছরের এই পুরাতন গানটাই গুনগুন করে গাইছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের জুলি বাঁশফোর।

হরিজন সম্প্রদায় গুরুদাসপুর পৌরসভাসহ পুরো শহরের শ্রী বৃদ্বির জন্য কাজ করলেও নিজেদের ভাগ্যটাই যেন রয়ে গেছে শ্রীহীন। বাসা বিহীন ককিল পাখিরা যেমন ওদের মিষ্টি সুরে গান গেয়ে মাতোয়ারা করে রাখে গোটা প্রকৃতিকে। তেমনি জুলিরাও পুরো শহরটাকে পরিস্কার পরিচ্চন্ন করে রাখেন আপন মহিমায়। অথচ বসবাস করার এক চিলতে খাস জমিতে ঠাঁই পেলেও তাদের নেই কোন বাসযোগ্য ঘরবাড়ী।

পৌরসভায় এদের অধিকাংশ লোক কর্মরত থাকলেও পৌর শহরের বাহিরে ১২ শতাংশ জমিতে গাদাগাদি করে বাস করছেন ২৪টি পরিবারের ১৪৪ জন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ।

সরেজমিনে গুরুদাসপুর পৌরসভার হরিজন পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়- পৌর সভার বাহিরে সামান্য একটু জায়গার উপরে ২৪ টি পরিবারের মোট ১৪৪ জন সদস্য কোন ঠাসা ঠাসি করে বসবাস করছেন। ওই সম্প্রদায়ের নারী শ্রমিক বেলী বাঁশফোর(৪২) জানান, ১০ ফুট বাই ১৪ ফুটের ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে স্বামী জিতেন বাঁশফোর (৫৪) ও দুই ছেলে বিপ্লব (২৪) স্ত্রী মিনা (২২) ৮ মাসের নাতি জোসেফ এবং ছোট ছেলে অন্তর(১২) এবং দুই মেয়ে পুঁজা ও পুর্নিমাসহ ৮ জন একত্রে বসবাস করছেন একই ঘরে।

এক পরিবার খাটের ওপর, আরেক পরিবার নিচে, আর ঘরের সঙ্গে নামকাওয়াস্তে যে বারান্দা, সেখানে ঘুমায় জিতেন বাঁশফোর ও স্ত্রী বেলীরানী। বেলী আরো জানান- মান-ইজ্জত নিয়ে এভাবে বেঁচে থাকা যায় না।

একই আয়তনের পাশের ঘরে স্ত্রী পুতলী বাঁশফোর(২৮)কে নিয়ে বসবাস করেন স্বামী প্রদীপ বাঁশফোর(৩২)। ওই একই ঘরে থাকে তার দুই মেয়ে ১৮ বছরের রেখা, ১৪ বছরের দীপালী ও ৮ বছরের ছেলে দীপ এবং ৬ বছরের ছেলে শিপন।

মিন্টু বাঁশফোরের মেয়ে স্থানীয় ড. সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী বৃষ্টি (১৮)জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের কোন মূল্যায়ন কেউ করে না। ।সদস্য সংখ্যা বেশী হওয়ায় ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় তাদের। ফলে পড়ালেখায় ঠিকমত মনযোগ দিতে পারেন না।

একারনে তারা সরকারী খাস জমি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর উপহার চান।ওই পল্লীরই বাসিন্দা স্বদেশ বাঁশফোরের কলেজ পড়–য়া মেয়ে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের ছাত্রী অনিতা (২০) বলেন, আমরাও তো মানুষ কিন্তু অধিকার বলে কিছু নেই আমাদের। আমরা সব অধিকার থেকে বঞ্চিত। তথা কথিত ‘সভ্য মানুষ’রা আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আমাদেরও অধিকার আছে খাস জমি এবং ঘর পাবার।জুলি বাঁশফোর দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতে মেঝেতে লম্বা বিছানা পাতি। ঘরগুলো ছোট তাই মেঝেতে শোয়ার সময় পাশ ফিরে ঘুমাতে পারি না। এতে মেয়েদের বেশী সমস্যা হয়।

ষাটউর্ধো এক নারী বলেন, সেয়ানা (প্রাপ্ত বয়স্ক) ছেলে-মেয়েরা বাবা-মার সাথে একসাথে ঘুমাতে চায় না। রাত হলেই তাই চোখে জল নেমে আসে। এক কক্ষের ঘরে গরু-ছাগলের মত বসবাস করি আমরা।

সরকার থেকে যদি আমাদের একচিলতে জায়গা আর বাসস্থানের ব্যাবস্থা করে দিতেন তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো।তিনি আরো জানান, সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থার লোকজন কোনো দিন আমাদের সাহায্য করেনি। শুধু মাত্র মন্দিরের জন্য স্থানীয় সাংসদ এক লক্ষ টাকা আর পৌর মেয়র বসবাসের জন্য ১২ শতক জায়গা দিয়েছেন পৌর সভার বাহিরে।

এবিষয়ে গুরুদাসপুর উপাজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, একই ঘরে একাধীক সদস্য বাস করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা তাদের জীবন মান উন্নয়োনের জন্য বিধি মোতাবেক খাস জায়গা অনুসন্ধান করছি। জায়গা পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ঘর নির্মানে সহযোগীতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Developed by banglawebs